লিভার সুস্থ আছে কি না, জন্ডিস হয়েছে কি না, বা রক্তে লোহিত কণিকার ভাঙন অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে কি না — এই সবকিছুই একটি মাত্র পরীক্ষায় নির্ণয় করা সম্ভব, আর সেটি হলো Bilirubin Test বা বিলিরুবিন পরীক্ষা। বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীর এই পরীক্ষাটি করানো হয়, কারণ এটি লিভার ফাংশনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্লিনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন পদ্ধতিগুলির একটি।
বিলিরুবিন টেস্ট কত টাকা? — ২০২৬ আপডেট প্রাইস
নিচের টেবিলে বাংলাদেশের প্রধান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সরকারি হাসপাতালে বিলিরুবিন টেস্টের বর্তমান মূল্য দেওয়া হলো:
| টেস্টের নাম | পপুলার ডায়াগনস্টিক (২০২৬) | সরকারি হাসপাতাল (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| Bilirubin (Total) | ৪০০ টাকা | ৬০ টাকা (পুরনো রেট) |
| Bilirubin (Direct/Indirect) | ৫০০ টাকা | — |
| Urine for Bilirubin | ৪০০ টাকা | — |
দ্রষ্টব্য: ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভেদে এবং ব্যবহৃত রিএজেন্ট ও মেশিনের মানভেদে মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ মূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
READ MORE: Popular Diagnostic Centre সকল টেস্টের মূল্য তালিকা ২০২৬
Table of Contents
বিলিরুবিন টেস্ট কী?
বিলিরুবিন টেস্ট হলো একটি বায়োকেমিক্যাল রক্ত পরীক্ষা যা রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা পরিমাপ করে। বিলিরুবিন হলো একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ যা শরীরে লোহিত রক্তকণিকার স্বাভাবিক ভাঙনের সময় তৈরি হয়। এটি লিভার কর্তৃক প্রক্রিয়াজাত হয় এবং পিত্তের মাধ্যমে পাচনতন্ত্র দিয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

রক্তে বিভিন্ন ধরনের বিলিরুবিন
রক্তে বিলিরুবিন প্রধানত দুই ধরনের হয়:
Total Bilirubin: Direct ও Indirect বিলিরুবিনের মোট পরিমাণ।
Conjugated (Direct) Bilirubin: লিভার কর্তৃক প্রক্রিয়াজাত বিলিরুবিন, যা শরীর থেকে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত।
Unconjugated (Indirect) Bilirubin: লিভার দ্বারা এখনো প্রক্রিয়া না-হওয়া বিলিরুবিন। নবজাতকে এর মাত্রা বেশি থাকলে নবজাতক জন্ডিস (Neonatal Jaundice) দেখা দেয়, যা সাধারণত অস্থায়ী এবং বয়সের সাথে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

বিলিরুবিন নরমাল রেঞ্জ কত?
| বিলিরুবিনের ধরন | প্রাপ্তবয়স্ক | নবজাতক |
|---|---|---|
| Total Bilirubin | 0.30 – 1.00 mg/dl | 0.60 – 10.50 mg/dl |
| Direct (Conjugated) | Up to 0.60 mg/dl | — |
| রিপোর্ট ইউনিট | mg/dl | mg/dl |
বিলিরুবিন টেস্ট কেন করা হয়?
বিলিরুবিন পরীক্ষাটি মূলত নিচের কারণগুলো নির্ণয়ের জন্য স্পেশালিস্ট কনসালটেশনের পর চিকিৎসক নির্দেশ দিয়ে থাকেন:
- জন্ডিস (Jaundice) সন্দেহ বা নিশ্চিতকরণের জন্য
- লিভারের রোগ যেমন হেপাটাইটিস, সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের ক্লিনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন
- পিত্তনালীতে বাধা (যেমন পিত্তথলির পাথর বা টিউমার) শনাক্ত করতে
- হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া বা রক্তের ব্যাধি নির্ণয়ে ডায়াগনস্টিক অ্যাকিউরেসি নিশ্চিত করতে
- চলমান ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল মনিটরিং করতে
রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রা লিভারের কার্যকারিতায় গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই কোনো উপসর্গ অনুভব করলে নিজে থেকে পরীক্ষা না করিয়ে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
READ MORE: CRP টেস্ট কী? লিভার ও প্রদাহের সাথে সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে মূল্য ২০২৬
বিলিরুবিন টেস্টের প্রস্তুতি ও স্যাম্পল কালেকশন
এই পরীক্ষার জন্য কোনো বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। তবে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখা উচিত:
- রক্ত দেওয়ার সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরে আসুন যাতে শিরায় সহজে প্রবেশ করা যায়
- জন্ডিসের সক্রিয় ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল চলাকালীন পরীক্ষা করালে চিকিৎসকের পূর্ব অনুমতি নিন
- স্যাম্পল: Serum Bilirubin-এর জন্য Red Top Vacutainer Tube-এ সিরাম সংগ্রহ করা হয়। Urine for Bilirubin-এর ক্ষেত্রে প্রস্রাবের নমুনা দিতে হয়।
রিপোর্ট ডেলিভারি সময়
| টেস্ট | আর্জেন্ট রিপোর্ট | নরমাল রিপোর্ট |
|---|---|---|
| Bilirubin (Total) | ১–২ ঘণ্টা | ৬–৭ ঘণ্টা বা ১ দিন |
| Bilirubin (Direct/Indirect) | ১–২ ঘণ্টা | ৬–৭ ঘণ্টা বা ১ দিন |
আধুনিক অটো অ্যানালাইজার (যেমন Cobas 501, Beckman Coulter 480, Vitros 5600) ব্যবহারে মেশিনে মাত্র ১০–১৫ মিনিটেই বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়, যা ডায়াগনস্টিক অ্যাকিউরেসি নিশ্চিত করে।
বিলিরুবিন বেড়ে গেলে কী হয়?

রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণগুলো চিকিৎসা বিজ্ঞানে হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া নামে পরিচিত। প্রধান কারণগুলো হলো:
১. লোহিত রক্তকণিকার অতিরিক্ত ভাঙন: অ্যানিমিয়া বা হেমোলাইটিক ডিসঅর্ডারে লোহিত কণিকা দ্রুত ভাঙে, ফলে বিলিরুবিন উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি হেমোলাইটিক জন্ডিস সৃষ্টি করে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্পেশালিস্ট কনসালটেশন প্রয়োজন।
২. লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস: হেপাটাইটিস, সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারে লিভার বিলিরুবিন সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করতে পারে না, যা রক্তে বিলিরুবিন জমতে দেয়। লিভার ফাংশন টেস্ট প্যানেল ও ক্লিনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন এক্ষেত্রে অপরিহার্য।
৩. পিত্তনালীতে বাধা: পিত্তথলির পাথর বা টিউমারের কারণে পিত্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে অবস্ট্রাক্টিভ জন্ডিস হয়। সার্জিক্যাল বা এন্ডোস্কোপিক হস্তক্ষেপসহ ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল নির্ধারণে এই পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বংশগত রোগ: গিলবার্ট সিন্ড্রোম বা ক্রিগলার-নাজ্জার সিন্ড্রোমের মতো জেনেটিক কারণে লিভারের বিলিরুবিন প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে।
বিলিরুবিন কমে গেলে কী হয়?
বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম মাত্রা সাধারণত ক্লিনিক্যালি কম উদ্বেগজনক, তবে নিচের পরিস্থিতিতে এটি হতে পারে:
- অস্থায়ী রোগের (যেমন ভাইরাল ইনফেকশন) সফল চিকিৎসার পর বিলিরুবিন স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসে
- হেপাটাইটিস বা সিরোসিসের চিকিৎসায় লিভারের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার হলে বিলিরুবিন হ্রাস পায়
- পিত্তনালীর বাধা অপসারণ (সার্জারি বা এন্ডোস্কোপি) করা হলে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক নির্গমন পুনরায় শুরু হয়
- হেমোলাইটিক অবস্থার সফল ট্রিটমেন্ট প্রোটোকলের ফলে লোহিত কণিকার ভাঙন কমে আসে
জন্ডিসের লক্ষণ কী কী?
রক্তে বিলিরুবিন বৃদ্ধি পেলে জন্ডিস দেখা দেয়। এই অবস্থায় নিচের উপসর্গগুলো লক্ষ্য করা যায়:
- ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া — জন্ডিসের সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও প্রাথমিক লক্ষণ
- গাঢ় প্রস্রাব — অ্যাম্বার বা চা-রঙের প্রস্রাব বিলিরুবিনের উপস্থিতি নির্দেশ করে
- ফ্যাকাশে বা মাটি-রঙের মল — পিত্ত অন্ত্রে না পৌঁছানোর কারণে মলের রং হালকা হয়ে যায়
- চুলকানি (Pruritus) — ত্বকে বিলিরুবিন জমার কারণে তীব্র চুলকানি হতে পারে
- অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা — সামগ্রিক শারীরিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়
- পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি — বিশেষত পিত্তথলি বা লিভারের সমস্যায়
এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত একজন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সাথে স্পেশালিস্ট কনসালটেশন নেওয়া উচিত। স্ব-চিকিৎসা বা হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ ছাড়া উপযুক্ত ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
সকল টেস্ট এর আপডেট জানতে চোখ রাখুন Oviggobd ফেসবুক পেজে।
FAQ
Q: বিলিরুবিন টেস্ট কত টাকা লাগে বাংলাদেশে?
A: বাংলাদেশে বিলিরুবিন টেস্টের মূল্য কেন্দ্রভেদে ভিন্ন। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ২০২৬ সালের আপডেট মূল্য অনুযায়ী Bilirubin (Total) ৪০০ টাকা এবং Bilirubin (Direct/Indirect) ৫০০ টাকা। সরকারি হাসপাতালে পুরনো রেট অনুযায়ী মাত্র ৬০ টাকায় করা যায়, তবে বর্তমান মূল্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন।
Q: বিলিরুবিনের নরমাল রেঞ্জ কত?
A: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে Total Bilirubin-এর নরমাল মাত্রা 0.30 থেকে 1.00 mg/dl এবং Direct Bilirubin সর্বোচ্চ 0.60 mg/dl পর্যন্ত স্বাভাবিক। নবজাতকের ক্ষেত্রে Total Bilirubin 0.60 থেকে 10.50 mg/dl পর্যন্ত স্বাভাবিক হতে পারে।
Q: বিলিরুবিন বেড়ে গেলে জন্ডিস হয় কেন?
A: বিলিরুবিন একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ। রক্তে এর মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে (হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া) তা ত্বক, চোখের সাদা অংশ ও শ্লেষ্মাঝিল্লিতে জমে হলুদ রং ধারণ করে — এই অবস্থাকেই জন্ডিস বলা হয়। লিভার রোগ, পিত্তনালীতে বাধা বা অতিরিক্ত লোহিত কণিকা ভাঙন এর প্রধান কারণ।
Q: বিলিরুবিন টেস্টের রিপোর্ট কতক্ষণে পাওয়া যায়?
A: আধুনিক অটো অ্যানালাইজার ব্যবহারকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আর্জেন্ট রিপোর্ট ১–২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যায়। নরমাল রিপোর্ট সাধারণত ৬–৭ ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ ১ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়া হয়।
নতুন কিছু শিখতে চাই এবং সেখাতে চাই । অনভিজ্ঞও থেকে আপনিও হয়ে উঠুন অভিজ্ঞ।